দিলশাদ নাহার কনা

২০০৬ সালে একক অ্যালবাম ‘জ্যামিতিক ভালোবাসা’র টাইটেল গানটির মাধ্যমেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন সুকণ্ঠী গায়িকা কনা। এরপর একে একে আরও দুটি একক অ্যালবামের মাধ্যমে বেশ কিছু হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল এবং চলচ্চিত্রে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন এই গায়িকা।

কনার জন্ম ১৫ এপ্রিল। তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। মিরপুরের টাইনি টটস স্কুল, মগবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লালমাটিয়া কলেজে পড়াশোনা করেছেন এই গায়িকা।

কুমার বিশ্বজিৎ

‘তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’ কিংবা ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ এর মতো গান দিয়ে এখনও শ্রোতাদের হৃদয়ে চির সবুজ হয়ে আছেন কুমার বিশ্বজিৎ। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। একাধারে তিনি গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক। তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীন চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বিশ্বজিৎ যদিও চট্টগ্রামে বেড়ে উঠেছেন, কর্মজীবনের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় ঢাকা আসা যাওয়া করতেন। গানের প্রতি তার আলাদা টান ছিল। ‘তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে’—এই গানটি দিয়ে সঙ্গীত ভুবনে আলোড়ন ফেলে দেন। তখন থেকেই তিনি বিখ্যাত হয়ে উঠেন। সঙ্গীত জীবনে তিনি অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। বাংলাদেশের নামকরা প্রায় সব সঙ্গীত পরিচালকের সাথে তিনি কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—‘তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে’, ‘ভিটা নাই রে’, ‘আমি সাম্পানে বাঁধিব ঘর’, ‘মানুষ বুড়ো হয় মন বুড়ো হয় না’, ‘মাতাল হাওয়া কেন বুকের মাঝে মিশে’, ’সেই কথা সেই স্মৃতি ছিলাম খেলার সাথি’ প্রভৃতি।

হৃদয় খান

২০১০ সালের শুরুর দিকে পূর্ণিমা আকতার নামের একটি মেয়েকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন হৃদয় খান। ছয় মাসের মাথায় হৃদয় খানের সেই সংসার ভেঙে যায়। এর আগে সাত বছর প্রেম করেন নওরীন নামের আরেকজন মেয়ের সঙ্গে। পরবর্তীতে হৃদয় খানের একটি গানের মিউজিক ভিডিওর মডেল হয়েছিলেন সুজানা। এরপর তার থেকে সাত বছরের বড় সুজানাকে ভালো লেগে যায় হৃদয় খানের। সেই ভালো লাগা রূপ নেয় ভালোবাসায়। প্রায় চার বছর ধরে প্রেম করে ২০১৪ সালের ১ আগস্ট বিয়ে করেন সাত বছরের বড় সুজানাকে। পত্র-পত্রিকা আর টিভির সামনেও স্বগর্বে নিজের প্রেমের কথা, ভালোবাসার কথা বলেছেন হৃদয় খান। কিন্তু হৃদয় খানের অনেক সাধনার বিয়ে বছর ঘুরার আগেই ভাঙনের মুখে পড়ে। কারণ, পারস্পরিক সমঝোতা না হওয়া। গত ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল বিচ্ছেদ হয় হৃদয়-সুজানার।

 

মিজু আহমেদ

বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রের পরিচিত মুখ মিজু আহমেদ ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘তৃষ্ণা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন করে। শৈশব থেকেই কুষ্টিয়ার স্থানীয় নাট্যগোষ্ঠীর সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।

শক্তিমান খল অভিনেতা রাজীবের মৃত্যুর পর তিনি ও মিশা সওদাগর খল চরিত্রে শীর্ষস্থান দখল করেন। ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

মিজু আহমেদ একাধিক ছবি প্রযোজনাও করেছেন। তার প্রযোজনা সংস্থার নাম ফ্রেন্ডস মুভিজ। মিজু আহমেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী পারভীন আহমেদ, দুই মেয়ে কেয়া ও মৌ এবং একমাত্র ছোট সন্তান হারসাতকে নিয়েই তার পরিবার।

২০১৭ সালের ২৭ মার্চ তারিখে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য ট্রেনযোগে দিনজাপুর যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বিমানবন্দর স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ ঐ সময় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তিনি। এসময় ট্রেনে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পালস পরীক্ষা করে তার হার্টবিট পাননি। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে মিজু আহমেদকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিদ্দিকুর রহমান

সিদ্দিকুর রহমান টেলিভিশনে রম্য অভিনেতা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ‘এইতো ভালোবাসা’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।

নিপুণ

দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী নিপুণের (Nipun) জীবনটাও অনেকটা চলচ্চিত্রের মত। ১৯৯৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার পর মস্কোতে চলে যান, সেখানে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করেন। এর মাঝে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধও হন তিনি। বিবাহসূত্রে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ২০০৬ সালে দেশে ফিরে এলে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান। অনেকটা শখের বশেই সিনেমায় অভিনয় করেন। দুর্ভাগ্য, প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘রত্নগর্ভা মা’ নামের সেই চলচ্চিত্রটি মুক্তির আলো দেখে নি। ‘পিতার আসন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আসেন নিপুণ।

২০০৮ সালে ‘সাজঘর’ চলচ্চিত্রের জন্য এবং ২০০৯ সালে ‘চাদের মত বউ’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার  পাওয়ার পরই জীবনের মোড় ঘুরে যায়, নিজেকে চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক হিসেবে তৈরী করে নেন। অতি সম্প্রতি কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ডাকও পেয়েছেন নিপুণ।

নিরব হোসেন

নিরব র‌্যাম্প মডেল দিয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন। এরপর তিনি টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। সেখান থেকে চলচ্চিত্রে ডাক পান নিরব। ২০০৯ সালে পরিচালক শাহীন-সুমনের ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন।

নিরব পড়াশোনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকে। তার স্ত্রী তাশফিয়া তাহের চৌধুরী। তাদের এক কন্যা রয়েছে।