জহির রায়হান

প্রতিবাদী সাহিত্য চর্চা করতে করেতই একসময় চলচ্চিত্রকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রই তার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে। ১৯৩৫ সালের ৫ আগস্ট (বিভিন্ন জায়গায় তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯ আগস্ট, কিন্তু তার বোন দাবি করেছেন জহির রায়হানের জন্ম তারিখ ৫ আগস্ট) তৎকালীন নোয়াখালি জেলার ফেনী মহকুমার অর্ন্তগত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। Continue reading

সুচন্দা

সুভাষ দত্তের ‘কাগজের নৌকা’ (১৯৬৬) ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন সুচন্দা। পরের বছর ‘বেহুলা’ (১৯৬৭) ছবিতে তিনি রাজ্জাকের সাথে জুটি গড়েন। এটি ছিল রাজ্জাকের নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি। পরবর্তীকালে আনোয়ারা (১৯৬৭), দুই ভাই (১৯৬৮), সুয়োরানী দুয়োরানী (১৯৬৮), কুচবরণ কন্যা (১৯৬৮), মনের মত বউ (১৯৬৯), সখিনা (১৯৬৯), জুলেখা (১৯৬৮), যোগ বিয়োগ (১৯৭০), যে আগুনে পুড়ি (১৯৭০), সংসার (১৯৬৮), প্রতিশোধ (১৯৭২), জীবন সংগীত (১৯৭২), অশ্রু দিয়ে লেখা (১৯৭২) এই জুটির দর্শকনন্দিত সিনেমা। রাজ্জাক ছাড়া অন্য নায়ক গোলাম মুস্তাফা (চাওয়া পাওয়া, ১৯৬৭); আনোয়ার হোসেন (কোথায় যেন দেখেছি, ১৯৭০); মান্নান (পরশমনি, ১৯৬৮); আজিম (নয়নতারা, ১৯৬৭); উজ্জল (কাঁচের স্বর্গ, ১৯৭২) প্রমুখের বিপরীতেও তিনি সফল। রহমানের বিপরীতে উর্দু ছবি যাহাবাজ শেহনাই (১৯৭০), পিয়াসা (১৯৬৮) এবং বাংলা অন্তরঙ্গ (১৯৭০) ছবির নায়িকা ছিলেন তিনি।

‘বেহুলা’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে পরিচালক জহিরের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাড়াহুড়া করে বিয়ে করেন তারা। সুচন্দারা তিন বোন, বাকি দুজন হলেন ববিতা ও চম্পা।

ববিতা

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ডাগর-চোখের অসাধারণ সুন্দরী প্রতিভাবান অভিনেত্রী ববিতা। অভিনয়ের যোগ্যতায় তিনি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে অভিনয় করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রে, অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী বিখ্যাত বাঙ্গালী চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সাথে। Continue reading

এটিএম শামসুজ্জামান

এটিএম শামসুজ্জামানের (ATM Shamsuzzaman) পরিচয় একাধিক। তিনি একজন কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা। সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করে লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন শেষে অভিনয়ে থিতু হন এটিএম শামসুজ্জামান, চলচ্চিত্র নির্মান কাজেও নিজেকে যুক্ত করেছেন বছর কয়েক আগে। Continue reading

ফারুক

বাংলা চলচ্চিত্রে গ্রামীন চরিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক মিয়াভাই নামে পরিচিত অভিনেতার নাম ফারুক (Faruk)। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত জলছবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন ফারুক। উল্লেখ্য, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মত চিত্রনাট্য লিখেন। Continue reading

কবরী

বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত কবরী সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং‘ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। পরবর্তীকালে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে মূল নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিক থেকে চিত্রনায়ক রাজ্জাকের সাথে তার জুটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই জুটি ‘আবির্ভাব‘, ও ‘বাঁশরী‘ (১৯৬৮); ‘ময়নামতি‘, ও ‘নীল আকাশের নীচে‘ (১৯৬৯);  ‘যে আগুনে পুড়ি‘, ‘ক খ গ ঘ ঙ‘, ‘কাঁচ কাটা হীরে‘, ও ‘দীপ নেভে নাই‘ (১৯৭০); ‘স্মৃতিটুকু থাক‘ (১৯৭১); ‘রংবাজ‘ (১৯৭৩); ‘গুন্ডা‘ (১৯৭৬) সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেয়।

তিনি জহির রায়হানের তৈরি উর্দু ছবি ‘বাহানা’ এবং ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিতেও অভিনয় করেন৷ অন্যান্য চিত্রনায়কদের বিপরীতে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হল আজিমের সাথে লোককাহিনিধর্মী ‘সাত ভাই চম্পা‘, ‘অরুণ বরুণ কিরণমালা‘ (১৯৬৮), ও ‘পারুলের সংসার‘ (১৯৬৯); উজ্জ্বলের সাথে ‘বিনিময়‘ (১৯৭০), ও ‘বলাকা মন‘ (১৯৭৩); ফারুকের বিপরীতে ‘সুজন সখী‘ (১৯৭৫)।

১৯৭৮ সালে আব্দুল্লাহ আল মামুনেরসারেং বৌ‘ ছবিতে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া ২০১৩ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কবরীর জন্ম ১৯৫২ সালের ১৯ জুলাই চট্রগ্রামে। তার প্রকৃত নাম মীনা পাল। পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল এবং মা শ্রীমতী লাবণ্যপ্রভা পাল। তিনি ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

নূতন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূতন। শৈশবে গান দিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে নৃত্য এবং মঞ্চ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন নূতন। প্রথম ছবিতেই তিনি সফলতা লাভ করেন। ১৯৭০ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং তিনি এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন। নূতনের আরেকটি পরিচয় হল তিনি একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক। Continue reading

রাজ্জাক

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে নায়করাজ হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক (Razzak) একাধারে একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছেন। Continue reading

অমিত হাসান

১৯৮৬ সালে এফডিসি আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ থেকে নির্বাচিত হয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে আসেন অমিত হাসান। ১৯৯০ সালে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। তখন তিনি সাইফুর নামে চলচ্চিত্রে কাজ করতেন। ‘অমর সঙ্গী’ ছবিতে তিনি নাম পরিবর্তন করে অমিত হাসান হয়ে যান।

একক নায়ক হিসেবে মনোয়ার খোকনের ‘জ্যোতি’ ছবি দিয়ে শুরু হয় তার সফলতা। এরপর তিনি ধীরে ধীরে শাবনূর, মৌসুমী, শাবনাজ-সহ তৎকালীন শীর্ষ নায়িকাদের বিপরীতে কাজ করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ‘প্রেমের অহংকার’, ‘প্রেমের সমাধি’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘বাবা কেন চাকর’ প্রভৃতি।

২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রং’ ছবির মাধ্যমে তিনি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি খলনায়ক চরিত্রেই বেশী অভিনয় করছেন।

অমিত হাসানের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সদরে। তার আসল নাম খন্দকার সাইফুর রহমান (আজু)।

মাহিয়া মাহি

২০১২ সালে ভালবাসার রং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মাহিয়া মাহি (Mahiya Mahi) বাংলা চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ‘ভালোবাসার রং’ এবং ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ ছবির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মাহি। তারপরে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ছবিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।


বিএমডিবি-তে মাহিয়া মাহি’র সকল সংবাদ পড়ুন এখানে এবং এখানে


‘অগ্নি’ ও এর সিক্যুয়াল ‘অগ্নি ২’ দিয়ে তিনি লেডি অ্যাকশন অবতারে আবির্ভূত হন। ছবি দুটি ব্যবসাসফল হয়। এছাড়া পুলিশ ক্রাইম থ্রিলার ‘ঢাকা অ্যাটাক’ তার আরেকটি ব্যবসাসফল ছবি।

মাহি বর্তমানে ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। তার ফেসবুক ফ্যান গ্রুপ ‘মাহিয়া মাহি দ্য প্রিন্সেস অব ঢালিউড’  তাকে নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন, বইটির শিরোনাম ‘মাহি দ্য প্রিন্সেস’।

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ: Mahia Mahi