আবিদ হাসান বাদল

আবিদ হাসান বাদল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি ‘আত্মসাৎ’, ‘তুমি শুধু তুমি’, ‘আলীবাবা’, ‘তুমি কত সুন্দর’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

আবুল হায়াত

আবুল হায়াত একজন অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্য পরিচালক এবং প্রকৌশলী। এক হাজারেরও বেশী টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তিনি মঞ্চ, রেডিও, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

মাত্র দশ বছর বয়সে প্রথম নাটকে অভিনয় করেন আবুল হায়াত – টিপু সুলতান নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন। আরও আগে থেকেই রেলওয়ে কর্মকর্তা বাবার কারণে নিয়মিত মঞ্চ নাটক দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সাল থেকে নিয়মিত টেলিভিশনে অভিনয় করে যাচ্ছেন আবুল হায়াত। তখন মাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন তিনি, ঢাকায় মেসে থাকতেন। এসময় তিনি জানতে পারেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় গ্রুপ থিয়েটারের একটি নাটক তৈরী হবে যা টেলিভিশনে দেখানো হবে। আমেরিকা থেকে নাটকের উপর মাস্টার্স করে আসা জিয়া হায়দার সেই নাটকের নির্দেশনা দেবেন। নাটকের নাম ইডিপাস। এর মাধ্যমেই টেলিভিশনে নাটকের যাত্রা শুরু করেন আবুল হায়াত।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রতি খুব বেশী মনযোগ দেন নি বলেই চলচ্চিত্রে সফল হন নি – এমনটা মনে করেন আবুল হায়াত। ১৯৭২ সালে ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আগমন করেন। সাধারণত ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন। ১৯৮৭ সালে প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

আবুল হায়াত অভিনয়ের পাশাপাশি মাঝে মাঝে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখে থাকেন। দৈনিক প্রথম আলো-তে তার কলামের নাম ‘এসো নীপবনে’। ১৯৯১ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় যার নাম ‘আপ্লুত মরু’। তার প্রকাশিত গ্রন্হের মধ্যে রয়েছে নির্ঝর সন্নিকটে, এসো নীপবনে (তিন খন্ড), জীবন খাতার ফুটনোট (২পর্ব), অচেনা তারা, হাঁসুলি বেগমের উপকথা, মধ্যাহ্নভোজ কি হবে ?, জিম্মি ইত্যাদি।

আবুল হায়াতের পূর্বপুরুষের বাসস্থান মুর্শিদাবাদে। ১৯৪৭ সালে তার পরিবার এদেশে চলে আসে। আবুল হায়াতের জন্ম মুর্শিদাবাদে হলেও শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের কিয়দাংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। আবুল হায়াতের বাবা আব্দুস সালাম ছিলেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে ওয়াজিউল্লাহ ইন্সটিটিউটের সাধারন সম্পাদক। স্কুল জীবন কাটে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট ও রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মেটৃকুলেশন (বর্তমান এসএসসি) পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৬২ সালে বুয়েটে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়ার সময় তিনি শেরেবাংলা হলে থাকতেন। এরপর বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৯৬৭ সালে পাস করে ১৯৬৮ সালেই ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে যোগ দেন।

প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও তার ধ্যান জ্ঞান ছিল অভিনয়ে। মূলত অর্থনৈতিক কারণেই প্রকৌশলী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। এরপর তিনি ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় তিন বছর চাকুরী করেন। ফিরে এসে ১৯৮২ সালে সরকারী চাকুরী থেকে পদত্যাগ করেন এবং কনসালটেন্ট হিসেবে চাকুরী করেন।

১৯৭০ সালে আবুল হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেজ বোনের ননদ মাহফুজা খাতুন শিরিনের। বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত তার দুই কন্যা এবং তৌকির আহমেদ ও শাহেদ শরীফ খান তার দুই জামাতা।

ছবিসূত্র: সাদেক সামি

আবুল খায়ের

চোখে চশমা পড়া বুড়ো লোকটি একটি গাছ খুঁজছেন, অর্জুন গাছ, ঔষধ বানানোর জন্য। তিনি কবিরাজ। গাছ পাওয়া গেল না। বাবা যে গাছ লাগিয়েছিল, সন্তান সেই গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। হতাশ কন্ঠে কবিরাজ বলেন, ‘আমি আর আপনেগো কবিরাজ না। আপনেরা চাইলেও আমি আর ঔষধ দিতে পারুম না’। এরপর তিনি হাটের মধ্যে গাছের চারা বিলি করেন আর বলেন, ‘আর আমাগো সন্তানেরা, তোমাদের জন্য ট্যাকার গাছ লাগাইলাম, অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি বানাইলাম’। ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী মেসেজসহ এই ভিডিওটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘদিন প্রচারিত হয়েছিল। ভিডিওর বুড়ো কবিরাজের নাম আবুল খায়ের, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, গুণী অভিনেতা।  Continue reading

আরিফুল হক

আরিফুল হক একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে লালন ফকির, সারেং বউ, বড় বাড়ির মেয়ে, সূর্য কন্যা, সুন্দরী, সখি তুমি কার, কথা দিলাম, নতুন বউ, এখনই সময়, পিতা মাতা সন্তান, দেশপ্রেমিক, ঘৃণা, তোমাকে চাই, স্বপ্নের নায়ক ইত্যাদি।

আমিন খান

চিত্রনায়ক আমিন খান তার বয়সের তুলনায় এখনো তরুণই রয়ে গেছেন। তার চেহারায় বিন্দুমাত্র বয়সের ছাপ পড়েনি। দেহাবয়বেও সে ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। মেদহীন শরীরে তিনি আগের মতোই প্রাণবন্ত রয়েছেন। Continue reading

আলী মনসুর

‘রূপবান’ ছবির রহিম খ্যাত অভিনেতা আলী মনসুর। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও গীত রচনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার পরিচালিত ছবিগুলো হল ফোক-ফ্যান্টাসি ধারার ‘মহুয়া’ ও নাটকীয় ধারার ‘জানাজানি’। এছাড়া তিনি ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ ছবির কাহিনি রচনা করেন।

আলীরাজ

অভিনেতা আলীরাজ (Aliraj) চলচ্চিত্রে আসেন নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরে। ছেলেবেলায় সিরাজগঞ্জে থাকতেই বর্ণালী ক্লাবের সাথে অভিনয় শুরু করেন। এরপর কাজ করেছেন তরুণ সম্প্রদায়, দুর্বার, সংলাপ থিয়েটারে। ঢাকায় চলে আসার পর ঢাকা থিয়েটারে কাজ শুরু করেন। সেখানে তার সহ অভিনেতা ছিলেন হুমায়ূন ফরিদী, আফজাল হোসেন, সুবর্ণা মোস্তফা, রাইসুল ইসলাম আসাদের মত বড় অভিনেতারা। তারপর একদিন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু-র ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ নাটকে অভিনয় করলেন, সেই নাটকের মাধ্যমে চোখে পড়লেন রাজ্জাকের। Continue reading

আলী যাকের

আলী যাকের ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তাঁর ঠিকানা। ‘বাকি ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘দেওয়ান গাজীর কিস্‌সা’, ‘কোপেনিকের ক্যাপটেন’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ম্যাকবেথ’সহ অনেক আলোচিত মঞ্চনাটকের অভিনেতা ও নির্দেশক তিনি।

‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’, ‘পাথর’, ‘দেয়াল’সহ বহু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন। এছাড়াও তিনি আগামী, নদীর নাম মধুমতী, লালসালু ও রাবেয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

আলী যাকেরের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর বাবা মোহাম্মদ তাহের ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির বদলি সূত্রে অল্প বয়সে তিনি কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে কাটান।

তার স্ত্রী স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের, ছেলের বউ মিম রশিদ, নাতনি নেহা ও মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া।

আলী যাকের ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন আলী যাকের। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত থেরাপি চলছিল তাঁর। গত সপ্তাহে শারীরিক সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে গত শনিবার বাসায় নেওয়া হয়। রোববার আবার ভর্তি করানো হয়। সোমবার কোভিড-১৯ টেস্ট করানো হয়। ফলাফল হাতে পেলে জানা যায়, তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ

আলমগীর কুমকুম

আলমগীর কুমকুম ১৯৬৮ সালে তার মামা পরিচালক ইআর খানের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘চেনা অচেনা’। এরপর তিনি ‘রূপবানের রূপকথা’ এবং ‘মধুবালা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৯ সালে আলমগীর কুমকুম চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে ‘স্মৃতিটুক থাক’, ‘আমার জন্মভূমি’, ‘গুন্ডা’, ‘মায়ের দোয়া’ অন্যতম। আলমগীর কুমকুম নির্মিত সর্বশেষ ছায়াছবি ‘জীবন চাবি’।

তিনি দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগে ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।