আলমগীর কুমকুম

আলমগীর কুমকুম ১৯৬৮ সালে তার মামা পরিচালক ইআর খানের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘চেনা অচেনা’। এরপর তিনি ‘রূপবানের রূপকথা’ এবং ‘মধুবালা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৯ সালে আলমগীর কুমকুম চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে ‘স্মৃতিটুক থাক’, ‘আমার জন্মভূমি’, ‘গুন্ডা’, ‘মায়ের দোয়া’ অন্যতম। আলমগীর কুমকুম নির্মিত সর্বশেষ ছায়াছবি ‘জীবন চাবি’।

তিনি দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগে ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

আলমগীর কবির

বাংলাদেশের মেধাবী নির্মাতাদের অনেকে এখনও বাণিজ্যিক ও শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রের মুশকিল থেকে বের হতে পারেননি। যেটাকে তারা জীবনঘনিষ্ঠ ও শিল্পসম্মত বলে থাকেন, তা জনপরিসরে তেমন একটা সমাদর লাভ করেনি। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে জীবনঘনিষ্ঠতা বলতে কী বোঝায় তা গত চল্লিশ বছরে অব্যক্তই রয়ে গেছে। এসব দেখে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, চলচ্চিত্রে জীবনঘনিষ্ঠতা বলতে আসলে কী বোঝায়। এই দোলাচলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা না ঘরকা না ঘাটকা। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরু থেকে এই বিভাজন এত মোটা দাগে ছিল না। Continue reading

আলমগীর

চিত্রনায়ক আলমগীর (Alamgir) অভিনেতা হওয়ার অনেক আগে থেকেই চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশের অন্যতম প্রযোজক ছিলেন তার পিতা তার পিতা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া। আলমগীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। পরবর্তীকালে তিনি পরিচালনার সাথেও যুক্ত হন। Continue reading

আলেকজান্ডার বো

আলেকজান্ডার বো (Alekzandar Bo) বাংলাদেশী অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেতা। ১৯৯৫ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লম্পট’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। Continue reading

আজাদী হাসানাত ফিরোজ

আজাদী হাসানাত ফিরোজ একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি পরিচালক দারাশিকো ও জহিরুল হকের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর সিদ্দিক জামাল নান্টুর সহকারী হিসেবে ‘রক্ত নিশান‘ এবং মতিন রহমানের সহকারী হিসেবে ‘চাঁদ কুমারী চাষার ছেলে‘ ও ‘আগুন জ্বলে‘ ছবিতে কাজ করেন।

তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কাজের মেয়ে’। এরপর তিনি ‘বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ’, ‘ফুলের মত বউ’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘ঘরের লক্ষ্মী’, ‘গ্রাম গঞ্জের পিরিতি’, ‘স্বামী নিয়ে যুদ্ধ’, ‘তুমি আমার মনের মানুষ’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তার জন্ম ১৯৬৬ সালের ১ নভেম্বর পাবনার হাঙরাগাড়িতে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা আইএ।

আফজাল শরীফ

কমেডি অভিনেতা আফজাল শরীফ (Afzal Sharif) মঞ্চ থেকে পরবর্তীতে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৮৪/৮৫ সালে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। Continue reading

আফজাল হোসেন

জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন (Afzal Hossain) কে বাংলাদেশের মানুষ মাত্রই এক নামে চিনে। বহুপ্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি একাধারে একজন অভিনেতা, কবি, লেখক, চিত্রশিল্পী, নির্মাতা এবং বিজ্ঞাপন শিল্পের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। মঞ্চ থেকে শুরু করে টেলিভিশন এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন এই গুণী ব্যক্তি, তবে শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন বিজ্ঞাপন শিল্পে। Continue reading

আনোয়ার পারভেজ

আনোয়ার পারভেজ একজন প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তার চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তার সঙ্গীত পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘কার পাপে’। এরপর তিনি ‘রূপের রানী চোরের রাজা’, ‘সোনার হরিণ’, ‘জোকার’, ‘বেদ্বীন’, ‘লুটেরা’, ‘মোকাবেলা’, ‘ডার্লিং’, ‘সোহাগ মিলন’, ‘মধুমালতী’, ‘মানসী’, ‘বদনাম’, ‘ঘরের বউ’, ‘স্বামীর ঘর’, ‘অভিমান’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘তালাক’, ‘সুখ দুখের সাথী’, ‘মাটির কোলে’, ‘হিমালয়ের বুকে’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

তার সুরারোপিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হল “সে যে কেন এলো না”, “আমি তো আজ ভুলে গেছি সবই”, “ইশারায় শিষ দিয়ে”, “আমি তো বন্ধু মাতাল নই”, “হয় যদি বদনাম হোক” প্রভৃতি। তার সুরারোপিত “জয় বাংলা বাংলার জয়”, “একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়” ও “একতারা দুই দেশের কথা বলরে” গানগুলো বিবিসির শ্রোতা জরিপে সেরা ২০ গানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তার জন্ম ১৯৪২ সালে ঢাকায়। তিনি অভিনেতা ও গায়ক জাফর ইকবাল এবং গায়িকা শাহনাজ রহমতউল্লাহর বড় ভাই। অভিনেত্রী জেসমিন পারভেজ তার স্ত্রী। তিনি ২০০৬ সালের ১৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

আনোয়ারা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও সফল পার্শ্ব অভিনেত্রী আনোয়ারা।  আনোয়ারা নৃত্যশিল্পী থেকে চরিত্রাভিনেত্রী হয়েছেন। ১৪-১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। আনোয়ারা অভিনীত প্রথম ছবির নাম ‘আযান’। নায়িকা হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ১৯৬৭ সালে সৈয়দ আউয়াল ও শিবলী সাদিক পরিচালিত উর্দু ভাষার ছবি ‘বালা’। অভিনেত্রী হিসেবে আনোয়ারার টার্নিং পয়েন্ট একই বছর মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। ওই ছবিতে আলেয়া চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে তিনি সর্বস্তরের দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। অভিনয়ের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

আনোয়ারার জন্ম ১৯৪৮ সালের ১ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তার পূর্ণনাম আনোয়ারা জামাল। তার বাবা জামাল উদ্দিন, মা ফরিদুন্নেসা। স্বামী মহিতুল ইসলাম। এক মেয়ে মুক্তি আর নাতনি কারিমা ইসলাম দরদী।

আজিম

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের ফোক-ফ্যান্টাসি ও রোম্যান্টিক ছবির নায়কদের মধ্যে অন্যতম আজিম (Azim)। তার পুরো নাম নূরুল আজিম খালেদ রউফ।

প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের ‘রাজধানীর বুকে’ ছবি দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রে আগমন করেন। পরে তিনি ‘হারানো দিন’, ‘নতুন সুর’, ‘মেঘ ভাঙ্গা রোদ’, ‘ডাক বাবু’ এবং ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে অভিনয় করেন। এই সময়ে তিনি ফোক-ফ্যান্টাসি ধারার ‘সাইফুল মুল্‌ক্‌ বদিউজ্জামাল’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘অরুণ বরুণ কিরণমালা’, ‘রূপবানের রূপকথা’, ‘পাতালপুরীর রাজকন্যা’, ‘নাগিনীর প্রেম’ এবং ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

পরবর্তী কালে তিনি প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও নাম লেখান। আজিম পরিচালিত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘টাকার খেলা’, ‘প্রতিনিধি’, ‘জীবন মরণ’, ‘বদলা’, ‘গাদ্দার’, ‘দেবর ভাবি’।

আজিমের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৩ জুলাই সিলেটের হবিগঞ্জে। ১৯৬৭ সালের ৩০ জুন তিনি অভিনেত্রী সুজাতাকে বিয়ে করেন। তিনি ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ ইন্তেকাল করেন।