আজাদ রহমান

আজাদ রহমান একজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী। তিনি দী থেকে বেগম, এপার ওপার, পাগলা রাজা, অনন্ত প্রেম, আমার সংসার, মায়ার সংসার, দস্যু বনহুর, ডুমুরের ফুল, মাসুদ রানা, রাতের পর দিনসহ প্রায় সাড়ে তিনশো ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন। তিনি ‘যাদুর বাঁশি’ ছবিতে তার কাজের জন্য সেরা সুরকার এবং ‘চাঁদাবাজ’ ছবিতে তার কাজের জন্য সেরা সঙ্গীত পরিচালক ও সেরা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

রহমান চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৬৩ সালে কলকাতার ‘মিস প্রিয়ংবদা’ ছবি দিয়ে। বাংলাদেশের ছবিতে প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরীর ‘আগন্তুক’ ছবিতে। এই ছবিতে খুরশিদ আলমকে ‘বন্দী পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার হাত ধরে ‘মাসুদ রানা’ ছবিতে প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এরপর মাসুদ পারভেজের ‘এপার ওপার’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ‘ভালবাসার মূল্য কত’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের নিকট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তী কালে সোহেল রানার ‘দস্যু বনহুর’ ও ‘গুনাহগার’ ছবি দুটোর সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘লোকে আমায় কয় গুনাহগার’ গানগুলোতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন— এ গানগুলোও শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি আজাদ রহমানের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। দেশভাগের পর পুরো পরিবার চলে আসেন ঢাকায়। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালের উপর স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ২০২০ সালের ১৬ মে মৃত্যুবরণ করেন।

ডি. এন. মজুমদার

দেবনাথ মজুমদার একজন চলচ্চিত্র সম্পাদক। তিনি আবু মুসা দেবুর সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তার সম্পাদিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সমাপ্তি’। এরপর তিনি ‘রূপবানের রূপকথা’, ‘সূর্য্য উঠার আগে’, ‘স্মৃতিটুকু থাক’, ‘নতুন বউ’, ‘কাঁচের স্বর্গ’, ‘রং বদলায়’, ‘হাবা হাসমত’, ‘এখানে আকাশ নীল’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘দায়ী কে’, ‘বউ হব’, ‘হিংসার পতন’, ‘তোমার জন্য পাগল’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র সম্পাদনা করেছেন।

তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১০ অক্টোবর কুষ্টিয়ার থানাপাড়াতে। চিত্রনায়িকা সুজাতা তার ছোট বোন।

আব্দুল জব্বার

জননন্দিত সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার চলচ্চিত্র, আধুনিক বাংলা গান, গণসংগীত ইত্যাদি বিভিন্ন ধারার গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত খ্যাতি অর্জন তাকে জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিণত করে। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান গেয়েছিলেন ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংগম’ ছবির গানে কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া “তুমি কি দেখেছ কভু” গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। সে বছর ‘পীচ ঢালা পথ’ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে “পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি” ও ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে “সুচরিতা যেওনাকো, আর কিছুক্ষণ থাকো” এ দুটি গান তাকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এনে দেয়। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ ছবিতে আলম খানের সুরে তার গাওয়া “ও রে নীল দরিয়া” গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। তার গাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গান হল রুনা লায়লার সাথে “অমন করে যেও না গো তুমি” প্রভৃতি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’-সহ অনেক দেশাত্মবোধক গানের গায়ক হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ এবং ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান ৩টি ২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার আয়োজনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলা ২০ গানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘কোথায় আমার নীল দরিয়া’ শিরোনামে তার প্রথম মৌলিক অ্যালবাম।

সঙ্গীতজীবনে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৮০), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-আজীবন সম্মাননা (২০১১) ও জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার।

আব্দুল জব্বারের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায়। তার পিতার নাম দখিল উদ্দিন প্রামাণিক এবং মাতার নাম বেগম ফুলজান। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আব্দুল জব্বার ছিলেন কনিষ্ঠতম। ১৯৫৬ সালে তিনি মোহিনীমোহন বিদ্যাপীঠ থেকে মেট্রিক পাশ করেন। তিনি ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।