ফরিদা ইয়াসমিন

ফরিদা ইয়াসমিন হলেন কণ্ঠশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন ও সাবিনা ইয়াসমীনের বোন। তাদের পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরায়। তারা পাঁচ বোনের মাঝে চার বোনই গান করেছেন। তারা হলেন ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াসমিন এবং সাবিনা ইয়াসমিন। ফরিদা সবার বড়। কয়েক বছর আগে সর্বশেষ তার গাওয়া গান নিয়ে বাজারে আসে একটি অ্যালবাম। Continue reading

ফরিদা পারভীন

লালন সাঁইজির গানের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে যার অবদান সর্বজনস্বীকৃত, তিনি বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বদরবারেও তিনি লালন সাঁইয়ের বাণী ও সুরকে প্রচারের কাজে নিয়েজিত ছিলেন। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও বহু দেশে লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন। লালনসংগীতে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। এছাড়া ১৯৯৩ সালের ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ফরিদার জন্ম ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায়। পারিবারিক সূত্রেই গানের ভুবনে আসা। গানের প্রতি বাবার টান ছিল বেশি। দাদিও গান করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে তাঁকে। শৈশবে যখন মাগুরায় ছিলেন, তখন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়। সেটা ১৯৫৭-৫৮ সালের কথা, তখন তিনি মাত্র চার-পাঁচ বছরের মেয়ে। স্বরলিপি দিয়ে নজরুলের গান হারমোনিয়ামে ও কণ্ঠে তোলার কাজটি তিনি ওস্তাদ মীর মোজাফফর আলীর কাছেই প্রথম শেখেন। ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ফরিদা পারভীনের পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়।

শুরুতে নজরুলসংগীত, পরে আধুনিক গান দিয়ে ফরিদা পারভীনের যাত্রা শুরু হলেও জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর লালন সাঁইজির গানের সঙ্গে ফরিদার পারভীনের যোগাযোগ, তখন তিনি কুষ্টিয়াতে থাকতেন। সেখানে তাঁদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন মোকছেদ আলী সাঁই। ১৯৭৩ সালে ফরিদা পারভীন তাঁর কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মাধ্যমে লালন সাঁইজির গানের তালিম নেন। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের মৃত্যুর পর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালনসংগীতের তালিম নেন।

ফরিদা পারভীনের প্রথম স্বামী প্রখ্যাত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আবু জাফর। তাঁর সেই সংসারে রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে; জিহান ফারিয়া, ইমাম নিমেরি উপল, ইমাম নাহিল সুমন ও ইমাম নোমানি রাব্বি।

ফরিদা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

ফকির লালন শাহ

লালন ফকির ছিলেন একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক। তাঁর গানের মধ্যে সন্ধান পাওয়া যায় এক বিরল মানব দর্শনের।

লালন শাহ, যিনি লালন ফকির বা লালন সাঁই নামেও পরিচিত, তিনি মৃত্যুর পর আজও বেঁচে আছেন তাঁর গানের মাঝে। তাঁর লেখা গানের কোন পাণ্ডুলিপি ছিল না, কিন্তু গ্রাম বাংলায় আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তাঁর রচিত গান ছড়িয়ে পড়ে লোকের মুখে মুখে।

লালন ফকিরকে “বাউল-সম্রাট” বা “বাউল গুরু” হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তাঁর গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি প্রায় দু হাজার গান রচনা করেছিলেন বলে লালন গবেষকরা বলেন।

লালন ফকিরের সঠিক জন্ম ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কোন কোন লালন গবেষক মনে করেন তেরশ’ চুয়াত্তর সালে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে লালন জন্মগ্রহণ করেছিলেন সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে। বাবা মাধব কর ও মা পদ্মাবতীর একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।

কুমারখালির ছেউড়িয়ায় নিজের আখড়ায় ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর, বাংলা ১২৯৭ সালের পয়লা কার্তিক ১১৬ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন মহাত্মা ফকির লালন শাহ।

বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকায় ১২ নম্বরে আছেন বাউল সাধক ফকির লালন শাহ।

শমী কায়সার

অভিনেত্রী শমী কায়সার (Shomi Kayser) মূলত একজন মঞ্চ এবং টিভি অভিনেত্রী। অনাগ্রহ থেকে শমী কায়সার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নি, তবে ভিন্ন ধারার একাধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন।

অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। এইচএসসি শেষ করে স্থাপত্যকলায় পড়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু এইচএসসি পড়ার সময়ই আতিকুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। ‘প্রথম নাটকের সাফল্য আমাকে অভিনেত্রী হতে অনুপ্রাণিত করে’ বলেন অভিনেত্রী শমী।

একসময়ের জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী শমী কায়সার ২০০৫ সালের শেষের দিকে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে সর্বশেষ নাটকের কাজ করেন। আলী বশীরের প্রযোজনায় এবং মান্নান হীরার পরিচালনায় নাটকটির নাম ‘নোনা জলের কাব্য’। প্রায় সাত বছর বিরতির পর ‘প্যারালাল ইমেজ’ টেলিছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আবার ফিরে আসেন। ভালো চিত্রনাট্যের অভাব এবং নিজস্ব প্রোডাকশন হাউজ ধানসিঁড়ি নিয়ে ব্যস্ততাই তাকে অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

শমী কায়সারের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ভারতীয় নির্মাতা রিঙ্গোকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তখনকার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার। তবে মাত্র দুই বছর আয়ু ছিল এই দাম্পত্য জীবনের। এই বিয়েকে জীবনের বড় ভুল হিসেবে স্বীকার করে শমী বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ”আমি ভুল থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি ডিভোর্সের মাধ্যমে’। ২০০৮ সালের ৬ অক্টোবর তারিখে শমী কায়সার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আরাফাত এ রহমানকে বিয়ে করেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার এবং সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সারের সন্তান শমী কায়সারের ভাই অমিতাভ কায়সার একজন সঙ্গীত শিল্পী।

সালমান জসীম

সালমান জসীম ‘ভালোবাসা আজকাল’ ছবির প্রধান সহকারী পরিচালক।