লাকী ইনাম

দেশের নাট্যজগতের এক কিংবদন্তী অভিনয়শিল্পী লাকী ইনাম। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক। গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি। বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছিলেন ব্যাপক প্রশংসা।

গুণি এই অভিনেত্রী যেমন টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ তেমনি মঞ্চেও। তিনি অভিনয় করেছেন হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’ ও ‘কোথাও কেউ নেই’সহ আরও অন্য পরিচালকের অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে।

তিনি নিজে পরিচালনা করেছেন বেশকিছু ধারাবাহিক নাটক। তার মধ্যে ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি’ নাটকটি অন্যতম।

তবে টেলিভিশন নাটকে কাজ করলেও শুরুটা হয়েছিলো তাঁর মঞ্চের মাধ্যমেই। মঞ্চে অভিনয় জীবন শুরু করেন ১৯৭২ সালে ‘নাগরিক নাট্য সমুদ্র’ নাট্যদলের মাধ্যমে। এরপর পরিচালনা করেছেন বেশকিছু জনপ্রিয় মঞ্চনাটক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, শারমা, প্রাগৈতিহাসিক, সেইসব দিনগুলি, বিদেহ ও মুক্তির উপায়। মঞ্চে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন ‘এওয়ার্ড অব অনার’ পুরস্কার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে পেয়েছেন ‘শিল্পকলা পদক ২০১৪’। এছাড়া নাট্যশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০১৯’ পেয়েছেন তিনি।

লাকী ইনামের জন্ম ১৯৫২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিল্পের প্রতি অনুরাগী। আর তাই ছোটবেলাতেই শিখেছেন নাচ ও গান। পাশাপাশি শিখেছেন ভরত নাট্যম, কত্থক ও মণিপুরী নৃত্য। বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মাঝে। সেই প্রভাবই পড়েছে তাঁর নাট্যজীবনেও। সেজন্যই হয়তো মঞ্চ হোক আর টেলিভিশন দু’মাধ্যমেই তিনি দেখিয়েছেন বৈচিত্র্যময় অভিনয় প্রতিভা।

গুণি এই অভিনয় শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সাধারণ সভাপতি হিসেবে। দাম্পত্য সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন আরেকজন গুণি অভিনেতা ইনামুল হককে। বড় মেয়ে হৃদি হকও একাধারে অভিনয় করছেন মঞ্চ ও টেলিভিশনে।

 

ব্যক্তিগত তথ্যাবলি

পুরো নামলাকী ইনাম
ডাকনামলাকী
জন্ম তারিখসেপ্টেম্বর ৬, ১৯৫২
ছেলে-মেয়েহৃদি হক