সৈয়দ আব্দুল হাদী

বাংলা গানের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ, জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী (Syed Abdul Hadi)। তার গাওয়া কালজয়ী অনেক দেশের গানই শ্রোতাদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গান গাইছেন তিনি। তার জন্ম বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেরার শাহপুর গ্রামে (তৎকালীন কুমিল্লা জেলা বলা হতো)। বেড়ে উঠেছেন আগরতলা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এবং কলকাতায়। তবে তার কলেজ জীবন কেটেছে রংপুর আর ঢাকায়। বাবা সৈয়দ আবদুল হাই। তার বাবা গান গাইতেন আর কলেরগানে গান শুনতে পছন্দ করতেন। বাবার শখের গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনে সেই কৈশোর জীবন থেকেই সঙ্গীত অনুরাগী হয়ে উঠেন সৈয়দ আবদুল হাদী। ছোটবেলা থেকে গাইতে গাইতে গান শিখেছেন। তারপর আর থেমে থাকেননি। নিরন্তর গান করে খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

১৯৫৮ সালে সৈয়দ আব্দুল হাদী ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবন থেকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তখনকার সিনেমায় প্লেব্যাক মানেই ছিল উর্দু ছবিতে গান গাওয়া। তবে ১৯৬৪ সালে হাদী একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় গান করেন। সিনেমার নাম ছিল ‘ডাকবাবু’। মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সঙ্গীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে সৈয়দ আব্দুল হাদী চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। বেতারে গাওয়া তার প্রথম জনপ্রিয় গান ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’ চমৎকার রোমান্টিক এ গানটি গেয়েছিলেন ১৯৬৪ সালে আবদুল আহাদের সুরে। সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের গানে সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন লাকী আখান্দ। এই ছবির খুব জনপ্রিয় গান ‘সখি চলনা, সখি চলনা জলসা ঘরে এবার যাই’- গেয়েছেন হাদী। চলচ্চিত্রের কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই সৈয়দ আব্দুল হাদীকে সবাই চেনেন-জানেন। তিনি রবীন্দ্রসংগীত গেয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয় হাদীর প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের একক অ্যালবাম ‘যখন ভাঙলো মিলন মেলা’।

হাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে অনার্স পড়ার সময় সুবল দাস, পি.সি গোমেজ, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ প্রমুখ তাকে গান শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন। তার বাবা ছিলেন ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) অফিসার। বিটিভির প্রথম চারজন প্রযোজকের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করে লন্ডনে ওয়েল্‌স ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরীয়ান হিসেবে অবসর নিয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী।

পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। এর মধ্যে রয়েছে – গোলাপী এখন ট্রেনে – ১৯৭৮, সুন্দরী – ১৯৭৯, কসাই – ১৯৮০, গরীবের বউ – ১৯৯০ এবং ক্ষমা ১৯৯২।

আলাউদ্দিন

আলাউদ্দিন একজন অঙ্গসজ্জাকার। তিনি ‘তবুও ভালবাসি’, ‘তোমার আছি তোমারই থাকব’, ‘স্বপ্নছোঁয়া’, ও ‘তুই শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের অঙ্গসজ্জার দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবুল খায়ের

আবুল খায়ের একজন চিত্রগ্রাহক। তিনি ষাটের দশকে পাকিস্তানি চিত্রগ্রাহক হাসানের সহকারী এবং পরে চিত্রগ্রাহক আব্দুল লতিফ বাচ্চুর সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। তার চিত্রায়িত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সমাধি’। এরপর তিনি ‘কাজল রেখা’, ‘অনুরোধ’, ‘আগুন’, ‘আয়না’, ‘সোহাগ’, ‘আসামী’, ‘রাজমহল’, ‘শীষনাগ’, ‘বুলবুল এ বাগদাদ’, ‘নান্টু ঘটক’, ‘স্বাক্ষর’, ‘সন্ধি’, ‘লুটেরা’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘রংবাজ’, ‘ব্যথার দান’, ‘বিধাতা’, ‘জিনের বাদশা’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর’, ‘অপরাজিত নায়ক’, ‘স্নেহ’, ‘দেনমোহর’, ‘ক্ষুধা’, ‘আন্দোলন’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘অতিক্রম’, ‘জজ সাহেব’, ‘আম্মা’, ‘অচেনা মানুষ’, ‘উল্কা’, ‘এতিম রাজা’, ‘অবুঝ মনের ভালবাসা’, ‘ভন্ড প্রেমিক’, ‘আখেরী হামলা’, ‘সিদ্ধান্ত’, ‘শর্ত’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘জীবনের গল্প’, ‘এই যে দুনিয়া’, ‘পাষানের প্রেম’ প্রভৃতি ছবির চিত্রগ্রহণ করেছেন। তিনি ‘সেতুবন্ধন’ ও ‘শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ’ ছবির চিত্রগ্রহণের জন্য দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

আবুল খায়েরের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ জুন ফেনীর ভালুকিয়া ভূঁইয়াবাড়িতে।

শফি বিক্রমপুরী

শফি বিক্রমপুরী একজন স্বনামধন্য পরিচালক, প্রযোজকক এবং রাজনীতিবিদ। ৭০-৮০ দশকের সময়ে শফি নামে দুইজন পরিচালকের বাংলা সিনেমার জগতে আর্বিরভাব ঘটে। রাজদুলালী এবং দি রেইন এই সিনেমার দুইটি পরিচালক ছিলেন এই শফিদ্বয়। এই ছবি দুইটি সেই সময়ে সিনেমার জগতে খুবই আলোচিত হয়। কিন্তু কোন ছবির পরিচালক কোন শফি তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। দর্শকদের এই বিভ্রান্তি দূর করতে বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া শফি সাহেব নিজেকে শফি বিক্রমপুরী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। Continue reading

শাহনাজ রহমতুল্লাহ

বাংলা দেশাত্ববোধক গানের একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্ববোধক গানগুলো হলো: “এক নদী রক্ত পেরিয়ে”, “একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে”, “একতারা তুই দেশের কথা বলরে‌ এবার বল”, “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ”, “আমায় যদি প্রশ্ন করে”। সঙ্গীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তার গাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গান হল “যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়”, “ফুলের কানে ভ্রমর এসে”, “ঘুম ঘুম ঘুম চোখে দেয় চুম” প্রভৃতি।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পিতা এম ফজলুল হক ও মাতা আসিয়া হক। প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল তার ভাই। ১৯৭৩ সালে তিনি আবুল বাশার রহমতুল্লাহকে বিয়ে করেন। তাদের এক মেয়ে নাহিদ রহমতউল্লাহ এবং এক ছেলে একেএম সায়েফ রহমতউল্লাহ।