শফি বিক্রমপুরী একজন স্বনামধন্য পরিচালক, প্রযোজকক এবং রাজনীতিবিদ। ৭০-৮০ দশকের সময়ে শফি নামে দুইজন পরিচালকের বাংলা সিনেমার জগতে আর্বিরভাব ঘটে। রাজদুলালী এবং দি রেইন এই সিনেমার দুইটি পরিচালক ছিলেন এই শফিদ্বয়। এই ছবি দুইটি সেই সময়ে সিনেমার জগতে খুবই আলোচিত হয়। কিন্তু কোন ছবির পরিচালক কোন শফি তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। দর্শকদের এই বিভ্রান্তি দূর করতে বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া শফি সাহেব নিজেকে শফি বিক্রমপুরী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। Continue reading
News Category:
শাহনাজ রহমতুল্লাহ
বাংলা দেশাত্ববোধক গানের একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্ববোধক গানগুলো হলো: “এক নদী রক্ত পেরিয়ে”, “একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে”, “একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল”, “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ”, “আমায় যদি প্রশ্ন করে”। সঙ্গীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তার গাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গান হল “যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়”, “ফুলের কানে ভ্রমর এসে”, “ঘুম ঘুম ঘুম চোখে দেয় চুম” প্রভৃতি।
শাহনাজ রহমতুল্লাহর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পিতা এম ফজলুল হক ও মাতা আসিয়া হক। প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল তার ভাই। ১৯৭৩ সালে তিনি আবুল বাশার রহমতুল্লাহকে বিয়ে করেন। তাদের এক মেয়ে নাহিদ রহমতউল্লাহ এবং এক ছেলে একেএম সায়েফ রহমতউল্লাহ।
সুস্ময় সুমন
সুস্ময় সুমন ‘খোঁজ – দ্য সার্চ’ ও ‘চল পালাই’ ছবির লেখক।
শিরিন বকুল
পঁচিশ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত থেকে মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের দর্শকদের তৃপ্ত করেছেন যিনি তার নাম শিরিন বকুল। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মঞ্চে নিয়মিত কাজ করলেও পাশাপাশি টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেছেন এবং চলচ্চিত্রের সাথেও যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া আবৃত্তির সাথেও জড়িত শিরিন বকুল।
অভিনয়ে শিরিন বকুলের হাতেখড়ি হয় ১৯৮৬ সালে ‘থিয়েটার’ নাট্যদলের (তোপখানা) হয়ে তারিক আনাম খানের নির্দেশনায় ‘পালাবদল’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এরপর একই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধ’, ‘তোমরাই’, ‘বিষ রক্ষার ছুরি’সহ আরো বেশকিছু নাটকে। এই দলের হয়ে মঞ্চ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন টানা দশ বছর। এরপর তিনি ‘আরন্যক’ এবং পরে ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
টিভি নাটকে অভিনয়ের শুরুতেই শিরিন বকুল আলোচনায় চলে আসেন টানা বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশা প্রযোজিত ‘আনোয়ারা’ (শিরিন বকুল অভিনীত প্রথম টিভি নাটক), গ্রন্থিকগণ কহে’ আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘সংশপ্তক, আলাউদ্দিন আহমেদের ‘বারো রকমের মানুষেরা’ ইত্যাদি।
চলচ্চিত্রে শিরিন বকুলের অভিষেক হয় জয়নাল আবেদীনের নির্দেশনায় ‘শত্রু শত্রু খেলা’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর তিনি চাষী নজরুল ইসলামের ‘রঙ্গিন দেবদাস’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি আবৃত্তিও করছেন শিরিন বকুল। ‘কন্ঠশীলন’-এ আবৃত্তির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘স্বঋত’ নামের একটি আবৃত্তি সংগঠন। ‘তোমাকে ভুলতে ভুলে যাই’ শিরোনামে একটি দ্বৈত আবৃত্তির অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।
২৮ জুলাই জন্ম নেয়া শিরিন বকুলের স্বামী প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও শিশু সাহিত্যিক আহমাদ মাজহার (চ্যানেল আইয়ের কর্মরত)। তার একমাত্র সন্তান সুদীপ্ত প্রিয়দর্শন।
সূত্র:
১. ইনকিলাব
২. সাতদিন
এ এ মামুন
এ এ মামুন প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
মাহফুজ আহমেদ
ছোট পর্দায় নিয়মিত ও সফল অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ (Mahfuz Ahmed) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
অঞ্জন সরকার
অঞ্জন সরকার একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও কাহিনীকার। তিনি খসরু নোমানের সহযোগিতায় চলচ্চিত্রে আগমন করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামের সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘শেষ পরিচয়’। এরপর তিনি ‘ভুল বিচার’, ‘পৃথিবী আমারে চায় না’, ‘তুমি আমার ভালবাসা’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
তার জন্ম ১৯৫৪ সালের ৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি কালিবাড়িতে। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন।
নজরুল ইসলাম আকন্দ
নজরুল ইসলাম আকন্দ একজন ব্যবস্থাপক। তিনি ‘ভাইয়া’, ‘পাল্টা হামলা’, ‘বাবা আমার বাবা’, ‘মায়ের স্বপ্ন’, ও ‘সে আমার মন কেড়েছে’ ছবিতে কাজ করেছেন।
খালিদ হাসান মিলু
খালিদ হাসান মিলুর সঙ্গীত জীবন শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকের প্রথমার্ধে । তার প্রকাশিত একক এ্যালবাম সংখ্যা ১২টি এবং মিশ্র ও দ্বৈত এ্যালবাম সংখ্যা প্রায় ১২০টি। তিনি প্রায় ২৫০টি চলচ্চিত্রে কণ্ঠে দিয়েছেন। তিনি প্রায় ১৫০০-এর মতো গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। আলী হোসেনের সুরে ‘কালো গোলাপ’ এ প্রথম চলচ্চিত্রে গান করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’ চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান হল ‘সজনী আমি তো তোমায় ভুলিনি’, ‘সেই মেয়েটি আমাকে ভালবাসে কিনা’, ‘চিঠি লিখলাম তোমাকে’, ‘আমার মত এত সুখী’। তার দ্বৈত গানের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে ‘বড় মিষ্টি লাগে তুমি কাছে এলে’, ‘শুধু একবার বলো ভালবাসি’, ‘কত ভালোবাসি’, ‘এ বাঁধন যাবে না ছিড়ে’; কনকচাঁপার সাথে ‘সাথী তুমি আমার জীবনে’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘অনেক সাধনার পরে’, ‘তুমি নাই কিছু নাই’; মিতালী মুখার্জীর সাথে ‘বার বার শতবার’ উল্লেখযোগ্য।
খালিদ হাসান মিলু জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬২ সালে ৩ এপ্রিল পিরোজপুরের আদর্শপাড়াতে। মিলুর বাবা মোদাচ্ছের আলী মিয়া ছিলেন স্থানীয় ‘গুনাইবিবি’ পালা গানের সাথে জড়িত। বাবা গানের মানুষ হিসেবে ছোট্ট মিলুরও ছিল গানের প্রতি বিশেষ এক ঝোঁক। এর কারণে তার গানের প্রতিভাও বিকশিত হয় দ্রুত। বাবার হারমোনিয়াম দিয়েই মিলুর গানের সাধনা শুরু।
তিনি ওস্তাদ রবীন দাস,সুরেশ দাস সহ আরো কয়েকজনের কাছে সঙ্গীত বিষয়ে তালিম নেন। তার তালিম নেয়া তখন পূর্নতা পায় যখন তিনি ১৯৭৮ সালে খুলনা বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পি হন। খুলনায় তিনি ‘স্পার্টান’ একটি ব্যান্ডও গঠন করেন। সঙ্গীতে নিজেকে আরো বিকাশিত করতে খালিদ হাসান মিলু ঢাকায় চলে আসেন।
মিলু লিভার সিরোসিসে ভুগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ ইন্তেকাল করেন। তার দুই পুত্র প্রতীক হাসান ও প্রিতম হাসানও সঙ্গীতের সাথে সম্পৃক্ত।